ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের 'ম্যাগনা কার্টা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সকল চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। ঐতিহাসিক এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের প্রকৃত শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

আজ শনিবার রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, তৎকালীন সময়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবেই ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতার বিপ্লব তা নস্যাৎ করে দেয়। এ কারণেই দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী জনগণের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে নাগরিক অধিকারের ভিত্তি হিসেবে যেভাবে ম্যাগনা কার্টা স্বাক্ষরিত হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সংহতি ও নাগরিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও এই দিনটি অনন্য ভূমিকা রাখে। তিনি স্পষ্ট করেন, ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে এ দেশের প্রতিটি মানুষের প্রধান পরিচয়—"আমরা বাংলাদেশি"। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০-এর এরশাদবিরোধী গণআন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি সংকটকালে এ দেশের তরুণ সমাজ প্রমাণ করেছে দেশের স্বার্থে তারা কখনোই আপস করে না।

ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেজন্য ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আগামী নির্মাণে বদ্ধপরিকর।