বিশ্বখ্যাত দুই জাপানি গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নিসান এবং হোন্ডা ভবিষ্যতের স্মার্ট গাড়ির যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার যৌথভাবে তৈরির জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০২৯ অর্থবছরের বাজার লক্ষ্য করে এই প্রযুক্তিনির্ভর নতুন গাড়িগুলো চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থা দুটি।

এই চুক্তির আওতায় ইয়োকোহামাভিত্তিক নিসান এবং টোকিওভিত্তিক হোন্ডা তাদের ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট (ইসিইউ) বা মূল কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য মানসম্মত যৌথ যন্ত্রাংশ ও গাড়ির সফটওয়্যার উদ্ভাবন ও শেয়ার করবে।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

যৌথ গবেষণার প্রেক্ষাপট

প্রযুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অটোমোটিভ সিস্টেম তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে ২০২৪ সালে প্রথম আলোচনার সূচনা করেছিল নিসান ও হোন্ডা। তাদের এই সর্বাধুনিক সমঝোতার মূল ফোকাস হলো ‘সফটওয়্যার-ডিফাইন্ড ভেহিক্যাল’ বা সফটওয়্যারচালিত যানবাহন তৈরি করা। এসব গাড়ির ফিচার ও কার্যাবলী হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের বদলে সফটওয়্যার আপডেট বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজে পরিচালনা ও পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে এই ঘোষণায় সুনির্দিষ্ট কোনো গাড়ির মডেল বা কেবল ইলেকট্রিক গাড়ির কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

খরচ নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে গাড়িশিল্পে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং (অটোমেটেড ড্রাইভিং), ডিজিটালাইজেশন এবং কার্বন নির্গমনমুক্ত বা জিরো-ইমিশন প্রযুক্তির প্রতি গুরুত্ব বাড়ছে। এর ফলে বিশ্বমানের গাড়িগুলো এখন উত্তরোত্তর ইলেকট্রনিক সিস্টেম ও সফটওয়্যার নির্ভর হয়ে পড়ছে।

দুই প্রতিষ্ঠান জানায়, যন্ত্রাংশ ভাগাভাগি ও যৌথ গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে উৎপাদন ও গবেষণার ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে এবং বড় পরিসরে একই প্রযুক্তি যৌথভাবে উৎপাদনের কারণে ব্যবসায়িক দক্ষতা লাভ করা সহজ হবে।

বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা

বৈশ্বিক অটোমোবাইল বাজারে এই ধারা নতুন নয়। ইতোমধ্যেই ইউরোপের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোকসওয়াগন, বিএমডাব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এবং স্টেলান্টিসের মতো জায়ান্টগুলো যৌথভাবে অপাটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার উদ্ভাবনে কাজ করছে।

জাপানের ঘরোয়া বাজারে শীর্ষে থাকা টয়োটা মোটর কর্পোরেশনের তুলনায় নিসান ও হোন্ডা বেশ কিছুটা পিছিয়ে। তাই বাজারে টিকে থাকা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজস্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতেই এই দুই প্রতিযোগী ব্র্যান্ড নিজেদের মধ্যকার পারষ্পরিক সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভবিষ্যতে জিরো-ইমিশন প্রযুক্তি বিস্তার এবং সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কমানোর বিভিন্ন গবেষণাতেও একে অপরের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ খতিয়ে দেখছে ব্র্যান্ড দুটি। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ফলপ্রসূ বিনিয়োগ, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ এবং ইন্টেলিজেন্ট ভেহিক্যাল টেকনোলজির পরিধি বাড়ানোই তাদের এই কৌশলগত জোটের অন্যতম মূল লক্ষ্য থাকবে।