রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিক্স কলেজ) ছাত্রী হোস্টেলে গভীর রাতে পুরুষ পুলিশের প্রবেশ ও আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের কঠোর সমালোচনা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার ( ৭ নভেম্বর ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি সরকারের ভূমিকা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, দেশে আদৌ কোনো সরকার ব্যবস্থা বহাল আছে কি না। গভীর রাতে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন প্রাঙ্গণে এ ধরনের প্রশাসনিক বলপ্রয়োগের পর দেশে আইন ও শাসনের কোনো উপস্থিতি অনুধাবন করা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হোস্টেলের সিট পুনর্বহাল, আবাসন সংকট নিরসন এবং প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন হয়রানি বন্ধের দাবিতে নারী শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন। জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, এসব দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ন্যায্য, যেখানে কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।
আলোচনার পথ এড়িয়ে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়াকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ করে গভীর রাতে নারী শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গায় পুরুষ পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ ও লাঠিচার্জ করার ঘটনাকে তিনি নীতি ও নিরাপত্তার মারাত্মক লঙ্ঘন বলে গণ্য করেন।
ঘটনার পেছনে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সাথে শিক্ষার্থী বোনদের সব যৌক্তিক দাবি অনতিবিলম্বে পূরণ করে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে চেপে রাখার পুরনো ফ্যাসিবাদী চর্চা আর বরদাস্ত করা হবে না। দেশের সচেতন নাগরিক ও ছাত্রসমাজ সব ধরনের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।



