দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান
দক্ষিণ ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপসহ একাধিক এলাকা লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর এক প্রতিবেদনে এই সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা 'আনাদোলু এজেন্সি' এই খবরের বিষদ বিবরণ প্রকাশ করে। এতে হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা নতুন করে উসকে উঠেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও মার্কিন কৌশল
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় আকারের কোনো সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে হালকাভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, "ইরানের সঙ্গে আমাদের সামরিক সংঘাত হয়েছিল এবং আমরা তাতে জয়ী হয়েছি। বর্তমানে আমরা কয়েক মাস ধরে কোনো যুদ্ধাবস্থায় নেই।" তবে প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের বিপরীতে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাঁরা ইরানি বিভিন্ন স্পর্শকাতর ঘাঁটিতে ছোট আকারের কৌশলগত হামলা অব্যাহত রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

হামলার কারণ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দাবি
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ এই ধারাবাহিক বিমান অভিযানকে মূলত 'প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁদের দাবি, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে ইরান যাতে কোনো ধরণের হুমকি সৃষ্টি বা হামলা চালাতে না পারে, তেহরানের সেই সামরিক সক্ষমতাকে ধ্বংস ও প্রতিহত করার লক্ষ্যেই মূলত এসব সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় বিস্ফোরণ
এদিকে ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে কেশম দ্বীপ এবং দেশটির অন্যতম প্রধান উপকূলীয় শহর বান্দর লেঙ্গেহসহ দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি স্থানে পর পর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ঘনঘন বিস্ফোরণে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরণের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।