নেতানিয়াহুর পর আইজেনকোটের হাতে ক্ষমতা!
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একটি সম্ভাব্য ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথম দুই বছর সরকার পরিচালনা করবেন। এরপর রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া এবং নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি মামলায় পূর্ণাঙ্গ ক্ষমা পাওয়ার শর্তে বিরোধী নেতা গাডি আইজেনকোটের কাছে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারেন তিনি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সম্ভাব্য এই ক্ষমতা ভাগাভাগির উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে এ ধরনের সমঝোতার পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রচারণা ও ফলাফল ঘোষণার আগেও গত দুই বছর ধরে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। প্রস্তাবটির অন্যতম শর্ত হলো, নেতানিয়াহু প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও তাঁর অগ্রাধিকারে থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই খবর সরাসরি নাকচ করেছে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ক্ষমতা ভাগাভাগির এমন কোনো উদ্যোগের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও উল্লেখ করেছে কার্যালয়টি।
এদিকে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে গাডি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে ১২০ সদস্যের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই এককভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
এখনো বিশেষ ভোটের গণনা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সেনাসদস্য, বন্দি, কূটনীতিক ও চিকিৎসাধীন ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ১৯৯৯ সালের পর দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
উল্লেখ্য, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিচার চলছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। এ ছাড়া গাজায় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের পর ইসরায়েলে সরকার গঠন এবং ক্ষমতার ভবিষ্যৎ বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাবটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।



