মরক্কোর পারিবারিক শিকড় ও কানাডার নাগরিকত্ব থাকার পরেও বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি কেন ভারতে বসবাস করছেন, সেই বিষয়ে সম্প্রতি আদালতে নিজেই মুখ খুলেছেন। বহুল আলোচিত সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজির মামলায় সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হয়ে তিনি ভারতে অবস্থানের সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় তুলে ধরেন।

গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিল্লির একটি আদালতে মামলার সাক্ষী হিসেবে হাজিরা দেন নোরা ফাতেহি। ২০০ কোটি রুপির আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে অভিনেত্রীর যোগাযোগের সূত্র ধরেই তদন্তকারী সংস্থা তাঁর নাম যুক্ত করেছিল। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে নোরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, তিনি কোনো অবৈধ উপায়ে বা ব্যক্তিগত কারণে ভারতে থাকেন না; বরং জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘টি-সিভিজ’-এর দেওয়া বৈধ এমপ্লয়মেন্ট বা কর্মসংস্থান ভিসার সুবাদেই তিনি বর্তমানে ভারতে বসবাস ও কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে নোরা ফাতেহি ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর একটি চেন্নাই সফরের কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। ওই সময়ে একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত একটি চ্যারিটি বা দাতব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে চেন্নাই গিয়েছিলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে তিনি একটি নাচের প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের হাতে দাতব্য অর্থ তুলে দিয়েছিলেন।

তদন্তে উঠে আসা সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নোরা আদালতকে জানান যে, চেন্নাইয়ের ওই চ্যারিটি অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুকেশকে বিন্দুমাত্র চিনতেন না। সুকেশের স্ত্রী লীনা মারিয়া পলুসের আমন্ত্রণে ও তাঁর মাধ্যমেই প্রথম সুকেশের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। চেন্নাইয়ের সেই অনুষ্ঠানে লীনার মাধ্যমেই সুকেশের সঙ্গে তাঁর সাময়িক যোগাযোগ ঘটেছিল বলে তিনি দাবি করেন।

মূলত গত ২ নভেম্বরই নোরা ফাতেহির আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের বয়ান রেকর্ড করার কথা ছিল। তবে পূর্বনির্ধারিত পেশাগত ব্যস্ততা ও কাজের শিডিউল থাকায় শেষ মুহূর্তে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে আদালতের সময় নির্ধারণ অনুযায়ী নির্ধারিত দিনেই (শুক্রবার, ৬ নভেম্বর) কোর্টে উপস্থিত হয়ে নিজের জবানবন্দি ও পূর্ণাঙ্গ বয়ান রেকর্ড করেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।