দেশের প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের দুই কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণি অনুযায়ী পড়া, লেখা ও গণিতে প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শিখন মান এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় অর্ধেকই বয়স অনুযায়ী সাধারণ লেখা পড়ে অর্থ বুঝতে পারে না। এই ঘাটতি পূরণে নতুন কর্মসূচির আওতায় পাঠদানের আধুনিক উপকরণ, পরিকল্পিত পাঠক্রম এবং শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের সমন্বিত প্যাকেজ চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসম জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তুলতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে এবং বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি ধরে রাখার সুযোগ বাড়বে।

সংস্থাটির সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও কর্মসূচির টিম লিডার তাশমিনা রহমান উল্লেখ করেন, পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘রেমিডিয়াল লার্নিং’ বা বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক এর সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে এই অর্থায়ন আসছে। ২৫ বছর মেয়াদি এই ঋণের ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।