পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর অসংগতি সামনে আসার পর পুরো এক্সামিনেশন সিস্টেম বা পরীক্ষা পদ্ধতি পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নে দায়িত্বে অবহেলা ও বড় ধরনের গরমিল পাওয়া পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ-পরবর্তী সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। মূলত পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার ভেতরের দুর্বলতাগুলোকে তীব্রভাবে সামনে এনেছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এর আগে এসএসসি পরীক্ষার প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষা করা হয়েছিল, যার ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল। ওই পুনর্নিরীক্ষায় প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়, প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করে। এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে ফল পরিবর্তনের এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের পুরো এক্সামিনেশন সিস্টেমকে আবার আমরা গভীরভাবে রি-এক্সামিন বা পুনঃমূল্যায়ন করব।
যেসব পরীক্ষক বা খাতা মূল্যায়নকারী দায়িত্ব পালনে চরম অসংগতি বা বড় ধরনের তারতম্য ঘটিয়েছেন, তাঁদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, পরীক্ষকদের জন্য উন্নত ট্রেনিং প্রোগ্রাম বা প্রশিক্ষণ এবং বেশি গরমিল সৃষ্টিকারীদের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী দিনে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান প্রত্যেকে যেন তার কাজের সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন পায়; কোনো শিক্ষার্থী যেন অনুৎসাহিত না হয় এবং একটি শতভাগ স্বচ্ছ ফলাফল দেশবাসীকে উপহার দেওয়া যায়।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ৪০ হাজারে নেমে আসার কারণ এবং আগের ফলাফলগুলোর কোনো তদন্ত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা দেখায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অসঙ্গতি পেলে শিক্ষার্থীরা রি-এক্সাম বা পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ পায়, যা যাচাই করে আগামী দিনে সঠিক পরিস্থিতি তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, "লেটস ওয়েট অ্যান্ড সি, আমরা দেখি রি-এক্সামিন করে, যেমন গতবার অনেক রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে, এবার কী অবস্থা হয়। আমাদের শিক্ষকদের, এক্সামিনারদের কোনো ঘাটতি হয়েছে কিনা, সেটা আমরা দেখি। তো আপাতত আমরা বলতে পারি যে, এই রেজাল্টটি যতটা হয়েছে, যদিও আমরা উদ্বিগ্ন, কিন্তু রেজাল্টে ত্রুটি আছে কিনা সে বিষয়ে আমরা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। রি-এক্সামিন করার পর বোঝা যাবে।"



