ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে আশা জাগিয়েছে বাংলাদেশ। স্পেলজুড়ে সুইং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রদর্শন ঘটিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক সেশন উপহার দেন এই ডানহাতি পেসার।

দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য বেশ কঠিন ছিল। সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভস উইকেটে জমে যাওয়ায় একপ্রকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল স্বাগতিকেরা। তবে নতুন বল হাতে পেতেই একাই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেন হাসান। ২১২ বল ধরে ক্রিজে লড়াই করা জাঙ্গুকে দারুণ এক সুইঙ্গার দিয়ে বোকা বানিয়ে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন রোস্টন চেজকে। হ্যাট্রিকের জোরালো সুযোগ তৈরি হলেও রিভিউয়ের কল্যাণে রক্ষা পান ওয়েস্ট ইন্ডিজের জশুয়া বিশপ।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

এরপর উইকেটকিপার লিটন দাসের এক অবিশ্বাস্য স্টাম্পিংয়ে উইকেটের গোড়ায় দাঁড়িয়ে গ্রিভসকে ফিরিয়ে প্রথম সেশনেই নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। তাঁর শিকার হওয়া পাঁচ ব্যাটসম্যানের দুজনই লেংথ বুঝতে না পেরে বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়েছেন। লিটনের চটজলদি গ্লাভস ওয়ার্কের পাশে ছিল হাসানের দারুণ নিয়ন্ত্রণ।

এই অর্জনের মাধ্যমে একটি অনন্য মাইলফলকে পৌঁছে গেছেন হাসান মাহমুদ। এটি তাঁর ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে দেশের মাটিতে প্রথম ৫ উইকেট। এর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, চেন্নাইয়ে ভারতের বিপক্ষে, ডারউইন ও আবুধাবিতে দেশের বাইরে চারটি ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। দেশের মাটিতে এই প্রথম ৫ উইকেট পাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার (৫ বার) এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডের শীর্ষে উঠলেন হাসান। তিনি পেছনে ফেলেছেন ৩৮ টেস্টে ৪ বার ৫ উইকেট নেওয়া সাবেক পেসার শাহাদাত হোসেনকে।

ধীরস্থির রানআপ ও টানা একই লাইন-লেংথে বল করে ব্যাটারদের স্টাম্পে আঘাত হানার এই সামর্থ্য বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সিলেট টেস্টে হাসানের এমন বোলিং বাংলাদেশকে কেবল খেলায় ফিরিয়েই আনেনি, তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।