দাম বৃদ্ধি ও নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত
বাজারজুড়ে চলমান তীব্র সরবরাহ সংকট ও অস্থিরতার মাঝেই এলপিজি বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবি জানান আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। তাঁদের উত্থাপিত প্রস্তাব পর্যালোচনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৯৭৬ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির ইমপোর্ট প্যারিটি প্রাইস ১২৮.৭০ টাকা, অপারেটরের মজুত ও বোতলজাতকরণ চার্জ ২৩.৪৮ টাকা, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ ৬.৬৭ টাকা এবং রিটেইলার চার্জ ৫.৮৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব খরচ মিলিয়ে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য ১৫৩.৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৪.৬৮ টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্তের নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্টদের মতে আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত মূল্য ঘোষণা হতে পারে।
ভোক্তা অধিকার ও অংশীজনদের ক্ষোভ
গণশুনানিতে বিভিন্ন স্তরের অংশীজন ও সাধারণ গ্রাহকদের প্রতিনিধিত্বকারীরা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, কেবল ব্যবসায়ীদের স্বার্থ না দেখে গ্রাহকদের সামর্থ্য ও সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা বিইআরসির প্রধান দায়িত্ব। অন্যথায় এ ধরনের গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, কেবল ব্যবসায়ীদের দাবিতে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আর অবশিষ্ট থাকবে না। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম আদায় করার যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে বিইআরসিকে কড়া নজরদারি ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।




মন্তব্য
এখনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।