ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি জানান, ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রধান লক্ষ্য হতে পারে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বত, যেখানে মাটির নিচে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চলছে বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা। সাধারণ অস্ত্রে যা ধ্বংস সম্ভব নয়।
টাকার কার্লসন দাবি করেন, নেতানিয়াহু প্রায় প্রতিদিনই এ বিষয়ে ট্রাম্পকে ফোন করছেন। তার মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে টিকে থাকা এবং সম্ভাব্য বিচার এড়াতে নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধ প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেতানিয়াহুর এই অবস্থানকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা খসড়া ইরান শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন বলে তিনি জানান।
এই হামলার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভয়াবহতা নিয়ে কার্লসন সতর্ক করেন। তিনি জানান, পিকঅ্যাক্স পর্বতে বিস্ফোরণ ঘটলে পারস্য উপসাগর তেজস্ক্রিয়তায় দূষিত হতে পারে, যা প্রায় ১০ কোটি মানুষের পানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে তা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এতে রাশিয়াও ইউক্রেনে পারমাণবিক হামলা চালানোর স্বাধীনতা পাবে বলে দুই দেশের সরকারকে সতর্ক করেছে।
কার্লসনের মতে, মার্কিন প্রশাসন তথাকথিত ‘রণাঙ্গনের পারমাণবিক অস্ত্র’ ব্যবহারের সুবিধার্থে পারমাণবিক নীতি সংশোধন করেছে। সাম্প্রতিক ফোনালাপে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সামরিক অভিযান এবং পিকঅ্যাক্স পর্বত নিয়ে আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কার্লসন উল্লেখ করেন, ট্রাম্প এখনও জেডি ভ্যান্স ও স্টিভ উইটকফের মতো সহযোগীদের কথা শুনছেন, যারা মনে করেন কূটনীতির পথ এখনো খোলা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সংঘাত এড়িয়ে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



