কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথমসারির স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। ঢাকার মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, ব্যক্তিগত সংকট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সালমান জানান, সরকারকে নিজের মতামত বা প্রস্তাব জানানোর কোনো সুযোগ বা প্ল্যাটফর্ম তাঁকে এখনো দেওয়া হয়নি। খুব আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলেও কোনো সাড়া মেলেনি, তাই এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার বা শোনার কোনো অবকাশ তৈরি হয়নি বলে মনে করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মন্তব্য বা ক্ষোভ প্রকাশের বড়জোর সংবাদমাধ্যমে খবর হতে পারে, কিন্তু পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন ঘটে না। বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে জমে থাকা হতাশা ও মানসিক বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে তিনি নতুন করে কোনো বাড়তি বার্তা বা চাপ তৈরি করতে চান না।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

নিজের জীবনের কঠিন সংকট ও ব্যক্তিগত ট্রমা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালমান জানান, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি বর্তমানে একটি করুণ সময় ও বড় বিপদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি ও কষ্ট হলেও তিনি কেবল দুঃখ প্রকাশ করে বসে থাকতে পছন্দ করেন না। জীবনের যেকোনো ভালো প্রাপ্তির জন্য যেমন খারাপ সময়ের মুখোমুখি হতে হয়, তেমনি সব নেতিবাচক পরিস্থিতিকে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী তিনি। এ ছাড়া কাজের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীর সমান সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, পারস্পরিক সাহায্য ছাড়া একা বড় কিছু অর্জন করা অসম্ভব।

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে জড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন বিতর্ক এবং তাঁর শ্বশুরের নাম টেনে আনা প্রসঙ্গে সালমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ধরনের প্রমাণ বা সত্যতা যাচাই না করেই তাঁর ওপর দোষ চাপানো হয়েছে। তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থন বা বিষয়টি নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। তিনি নিজে মানসিকভাবে শক্ত থাকায় পরিস্থিতি সামলে নিতে পারলেও এমন বিনা প্রমাণের অভিযোগ অনেকের কেরিয়ার, সুনাম ও জীবন চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের বিষয়ে সবার আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

সবশেষে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার করে সালমান মুক্তাদির দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন যে, তাঁর স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার পর তিনি বাংলাদেশে আর কোনো নতুন স্টুডিও পরিচালনা বা কোনো ধরনের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ করবেন না। দেশে স্থায়ীভাবে কাজ করার বা থাকার পরিকল্পনা তাঁর কখনোই ছিল না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।