ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে তিন প্রধান শিল্পাঞ্চলে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কর্মবিরতি দিয়ে বের হয়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার ৬৭০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক। বিজিএমইএ-র হিসাব অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেশের ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে খোলা ছিল মাত্র ১,৪৬৪টি।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহে, সেখানকার ৮৩৬টির মধ্যে ৩৮২টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এ দুই এলাকার ৮ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ না করে বাসায় ফিরে গেছেন।
সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টি বন্ধ হয়ে গেছে, যাতে প্রভাব পড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ শ্রমিকের ওপর। এছাড়া রাজধানীর মিরপুরে ৬৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় কাজ হারিয়েছেন ৫৩ হাজার ৪০০-র বেশি শ্রমিক।
সারা দেশে অসন্তোষ ছড়ালেও নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ১৯৭টি এবং চট্টগ্রামের ৩১৪টি কারখানার সবকটিই যথারীতি চালু রয়েছে।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববারের বিক্ষোভে পুলিশ ও শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সার্বিক নিরাপত্তায় সাভার ও গাজীপুর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন এবং সোমবার ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
শিল্পাঞ্চলে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। মিরপুর ও গাজীপুর এলাকা থেকে বিভিন্ন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ মোট ৪৯ জনকে ইতোমধ্যে আটক করেছে পুলিশ।
শিল্পাঞ্চলের তৈরি হওয়া সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্রুততম সময়ে কারখানা চালু রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



